সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলার বেকার তরুণ-তরুণী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। আগামীকাল ১০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) মাঠ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এক বিশাল ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ বা চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলার মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি দক্ষ জনবল নিয়োগের সুযোগ পাবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ উদ্যোগে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এবং স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SEIP)-এর যৌথ অর্থায়ন ও সহযোগিতায় এই মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার মূল আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বিনেরপোতা স্থিত ‘সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টি.টি.সি)’। তরুণদের কর্মমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং দক্ষ জনশক্তিকে সরাসরি কর্পোরেট সেক্টরের সাথে সংযুক্ত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, মেলাটি সকাল থেকেই সকল চাকরিপ্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মেলায় আগত প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন নামী-দামী প্রতিষ্ঠানে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত (CV) জমা দিতে পারবেন। অনেক প্রতিষ্ঠান মেলা প্রাঙ্গণেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার (Spot Interview) গ্রহণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
প্রকাশিত অফিশিয়াল পোস্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মেলায় দেশের বিভিন্ন খাতের মোট ১২টি বড় এবং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রাণ গ্রুপ, হোন্ডা কোম্পানি, ওয়ালটন গ্রুপ, বিডি জবস, তালুকদার গ্রুপ, তুবা পাইপ এন্ড ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজ, রনি প্লাইউড এন্ড ডোর ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রিয়াংকা নিট গার্মেন্টস, মজারু এডুকেশন টেকনোলজি, স্কেচ ভিউ, লন্ডন ট্যুরিজম লিমিটেড এবং ডাচ বাংলা প্যাক লিমিটেড।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব:
স্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও সমাজকর্মীদের মতে, সাতক্ষীরার মতো প্রান্তিক জেলায় এ ধরনের কর্পোরেট জব ফেয়ারের গুরুত্ব অপরিসীম। এর ফলে স্থানীয় যুবসমাজকে চাকরির জন্য ঢাকা বা অন্য বড় শহরে গিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না। দেশের শীর্ষস্থানীয় টেকনিক্যাল ও ম্যানুফ্যাকচারিং জায়ান্টরা সরাসরি সাতক্ষীরায় এসে মেধার মূল্যায়ন করছে, যা জেলার বেকারত্ব দূরীকরণে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
সাতক্ষীরা টিটিসি-র একজন কর্মকর্তা জানান, “আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে ADB ও SEIP-এর সহযোগিতায় আমরা এই মেলাটি আয়োজন করতে পারছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে, এই মেলার মাধ্যমে তারা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে। আমরা সকল চাকরিপ্রার্থীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জীবনবৃত্তান্তসহ মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।”
