পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সম্পদের উন্নয়নে গবেষণার অগ্রগতির কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সরকার গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য সম্পদের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য তিনি মৎস্যবিজ্ঞানীদের প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সম্পদের ব্যবহার ও অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গবেষণা প্রকল্পের একটি টাকাও যেন অপচয় না হয় এবং বরাদ্দের শতভাগ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। অন্যথায় জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং পরকালে আল্লাহর কাছেও দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
বর্তমান বেতন স্কেলকে সরকারের সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ উল্লেখ করে সচিব বলেন, আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেতন স্কেল দেওয়ার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তার যথাযথ প্রতিদান দিতে সবাইকে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আজ ৩০ অক্টোবর ২০২৬ রোজ শুক্রবার সকালে খুলনার পাইকগাছায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের লোনাপানি কেন্দ্রে গবেষণার অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ লতিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, চলমান গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক জলজ চাষ বা মেরিকালচারে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. আমিরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
গবেষণার অগ্রগতি ও চলমান কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন লোনাপানি কেন্দ্রের কেন্দ্রপ্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আজহার আলী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোনাপানি কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেবাশীষ কুমার মণ্ডল, ড. গোলাম সাজেদ রিয়ার ও ড. নূর-এ-রওশন; বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, সায়মা সুলতানা সোনিয়া, মাসুদুর রহমান ও ফাল্গুনী বিশ্বাস; সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায়।
