Tuesday, June 9, 2026

ডুমুরিয়ায় বহুল আলোচিত শংকরের বস্তিসহ ভেড়ার পাল বিতাড়িত – জনমণে স্বস্তি

Must read

 

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বহুল আলোচিত শংকর রাহা’র বস্তিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ ০৮ জুন ২০২৬ রোজ সোমবার বিকেলে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট অমিত কুমার বিশ্বাস এ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযান সুত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলা সম্প্রসারিত ভবনের পাশেই বসতি গড়ে তুলে ছিলেন শংকর রাহা (৫৫)। তার সংসারে ছিল স্ত্রীসহ ৩ সন্তান। এছাড়াও ছিল একপাল ভেড়া ও অনেক হাঁস-মুরগী। প্রাণীগুলোর বিচরণ ছিল সমগ্র উপজেলা জুড়েই। তারমধ্যে বেশি অবস্থান করতো উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ও তার আশপাশে। ফলে ওইসব স্থানে বিরাজ করতো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রানীদের মল-মুত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে অফিসের বারান্দাসহ রাস্তায় রাস্তায়। এ নিয়ে শংকর রাহা’কে অনেক বার সরকারি জায়গা ছাড়তে দেয়া হয় নোটিশ। কিন্তু কে, শোনে কার কথা? নাছোড় বান্দা শংকর কোন কিছু কর্ণপাত না করেই নিজের ইচ্ছা স্বাধীন মতো অবস্থান গেড়ে করতেন বসবাস। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবাসন পল্লীতে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও সেখানে তিনি যেতে নারাজ। তার এহেন কার্যকালাপ নিয়ে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিনও চালিয়ে ছিলেন অভিযান। ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন ঘরবাড়ি। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেই একই অবস্থা। আবারও খুঁটি গেড়ে তুলে ছিলেন ঘর। ফলে ভেড়ার পালের বিচরণ আর হাঁস মুরগির উৎপাতও আছে আগের মতই চলমান। বিষয়টি নিয়ে উপজেলার বর্তমান নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকারও তাকে বার বার নোটিশ দেন। কিন্তু অভিযুক্ত শংকর রাহা সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় তার বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে পরিচালিত হয় ভ্রাম্যমান আদালত। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট অমিত কুমার বিশ্বাস অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত শংকর রাহা’র কারণে সমগ্র উপজেলা চত্ত্বরের পরিবেশ বিগ্নিত হচ্ছিল। গোটা এরিয়ায় ছিল স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে। তাই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে তাকে তার প্রৈত্রিক সম্পত্তিতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে উৎসুক জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন- ভেড়াগুলোর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট ছিলাম। উপজেলায় ঢুকলেই গন্ধে নাকে কাপড় দিতে হত। বর্ষা হলেই ভেড়া আর মুরগীর জন্য বারান্দায় দাড়ানো মুশকিল হয়ে পড়তো। এবার আমরা মুক্তি পেয়েছি।

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article