দক্ষিন বাংলা ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ১০৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডুবে যাওয়া ফেরিটির নাম ভিরগো ট্রান্সপোর্ট ৮। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এটি ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমানতানের বানজারমাসিন শহরের দিকে যাচ্ছিল।
স্থানীয় সময় রোববার ভোররাত ২টার দিকে বানজারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ভোর ৪টা ১০ মিনিটে কর্তৃপদুর্ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা, নৌবাহিনী,ক্ষ প্রথম বিপদসংকেত পায়।
ফেরিটিতে ২১৩ জন যাত্রী ও ৩০ জন ক্রু ছিলেন। প্রায় ১১৯ মিটার দীর্ঘ ফেরিটি শনিবার সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে সুরাবায়া থেকে যাত্রা শুরু করে। রোববার দুপুর ২টার দিকে বানজারমাসিনে পৌঁছানোর কথা ছিল।
ব্যাপক উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা, নৌবাহিনী, সামুদ্রিক পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ২৮০ জন সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
দুর্ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। জাভা সাগরে চলাচলকারী অন্য সব নৌযানকেও সতর্ক করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, পানিতে কোনো যাত্রী বা নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পেলে যেন দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী প্রকাশিত ছবিতে সমুদ্রে ডুবে থাকা ফেরিটির একটি অংশ দেখা গেছে। জাহাজটির বড় একটি অংশ পানির নিচে রয়েছে।
বন্দরে স্বজনদের আহাজারি
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বানজারমাসিনের ত্রিসক্তি বন্দরে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা ভিড় করেন। কেউ প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন, আবার কেউ উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের তালিকায় স্বজনের নাম খুঁজছেন।
বানজারমাসিনের বাসিন্দা রুসমিলাওয়াতি তার আট আত্মীয়ের খোঁজ নিতে বন্দরে যান। তারা জাভায় কয়েকজন ইসলামি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সমাধি জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় বিমানে না গিয়ে জাহাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।
রুসমিলাওয়াতি জানান, আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোজ রোববার বিকেল পর্যন্ত তিনি তার আত্মীয়দের কেউ উদ্ধার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি।
দুর্ঘটনার আগে পরিবারের এক সদস্য হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, আজ রাতে ঢেউগুলো ছিল সত্যিই ভয়ংকর। নাকি জাহাজে ভ্রমণের সময় সাধারণত এমনই হয়? এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্বামী বেঁচে আছেন শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী
অন্যদিকে, ফেরির যাত্রী আহমাদ সুপান্দি জীবিত উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে তার স্ত্রী মিসনাহ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আহমাদ পেশায় পণ্যবাহী গাড়ির চালক। তাকে এমভি হাইদা নামের একটি জাহাজ উদ্ধার করে।
সুরাবায়ার তানজুং পেরাক বন্দরেও ফেরির ক্রু সদস্যদের স্বজনরা জড়ো হয়েছেন।
ফ্রেডি নামে এক ব্যক্তি জানান, তার ছোট ভাই স্টিভি মানুহুয়া ওই ফেরিতে কিবোর্ড বাজিয়ে যাত্রীদের বিনোদন দিতেন। দুর্ঘটনার দুই দিন আগে সুরাবায়া বন্দরে থাকা অবস্থায় ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। এরপর আর তার কোনো খবর পাওয়া যায়১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ফেরি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে দেশটিতে নৌদনি।
ইন্দোনেশিয়ায় নৌদুর্ঘটনা নতুন নয়
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ফেরি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে দেশটিতে নৌদুর্ঘটনাও প্রায়ই ঘটে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় ১১১টি জাহাজ দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসির সেলেয়ার দ্বীপপুঞ্জের পোলাসি দ্বীপের পশ্চিমে কেএম নুরুল সালসা নামের একটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৫৮ জন জীবিত উদ্ধার হন, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও ১৪ জনের সন্ধান তখনও পাওয়া যায়নি।
জাভা সাগরে ভিরগো ট্রান্সপোর্ট ৮ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। নিখোঁজ ১৩০ যাত্রী ও ক্রুর সন্ধানে সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী দল।
