পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ বারের সাবেক সফল চেয়ারম্যান, প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ (৮২) আর নেই।
আজ ৯ জুন ২০২৬ রোজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাঁকা ভবানিপুরস্থ নিজ বাসভবনে আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রবীণ এই জনপ্রতিনিধি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র, ১ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়: আজ বিকেলে বাঁকা শহীদ কামরুল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করে। এসময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম কিবরিয়া।
এরপর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সাবেক কমান্ডার ও সংসদ সদস্য সম বাবর আলী ও সাবেক কমান্ডার গাজী রুহুল আমিন, বিএম আনিসুর রহমান, জিএম জামির হোসেন, রনজিৎ কুমার সরকার সহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গণ মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জানাজা শেষে নিজ বসতবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। শোকের ছায়া ও জানাজায় ঢল:
এলাকার এই প্রিয় নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকেলে তার জানাজায় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবন:
মরহুম আবুল কালাম আজাদ ছিলেন একাধারে সফল জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। তিনি উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৬ বার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। (উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি নেন)। জনপ্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি তিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, রাড়ুলী আরকেবিকে হরিশ্চন্দ্র ইনস্টিটিউট-এর সাবেক অধ্যক্ষ, বাঁকা শহীদ কামরুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের উপজেলা সভাপতি এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন সফল ও গর্বিত পিতা ছিলেন। তার সন্তানেরা বাংলাদেশ পুলিশ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। শোক প্রকাশ: প্রবীণ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
