আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সুদের টাকা না পেয়ে গ্রাহকের বসত ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খাদিজা খাতুন নামে এক অসহায গৃহবধূ। বসতবাড়ি হারিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে দিন কাটানো ওই গৃহবধূ বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী।
আজ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোজ বুধবার দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে খাদেজা খাতুন জানান, ২০২২ সালে মাছের ঘের লোকসানে চলে যাওয়ায় আমার স্বামী মনিরুল ইসলাম আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সময় জমির মালিকের টাকা পরিশোধের জন্য প্রতিবেশী মতলেব ঢালীর ছেলে সুদের কারবারী আফতাবুজ্জামান ওরফে খোকন ঢালীর কাছ থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা সুদের চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। খাদেজা খাতুনের দাবি, চরম দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করে তার স্বামী ও একমাত্র ছেলে উসমান গনির স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দৈনিক ১০ টাকা হারে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে প্রায় সাত মাসে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।এরপর পুনরায় মাছের ঘের লিজ নিয়ে লোকসানের মুখে পড়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য আমরা বসতবাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যাই। ঢাকায় অবস্থানকালে সুদের টাকা দিতে না পারায় সুযোগ বুঝে আমাদের বসতবাড়ির তালা ভেঙে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে। আমাদের বসতবাড়ি সংলগ্ন বেতনা নদী খননের কাজে থাকা ঠিকাদারদের কাছে আমার দুই কক্ষের ওই বাড়ি ভাড়া দিয়ে খোকন ঢালী টাকা তুলে নেয়। এরপরে মূল টাকা ও সুদের হিসাব নিয়ে সে আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বাড়িতে ফিরে বসতঘরে তালা বদ্ধ দেখে জানতে পারি টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঘরে ঢুকতে দেয়া হবে না। তাই গত কয়েকদিন ধরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে দিন কাটাতে হচ্ছে। ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা সুদ দিয়েও আমি আজ ঘর ছাড়া। তাই সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে সুদখোর খোকনের হাত থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় গৃহবধূ খাদিজা খাতুন।
