সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : ঐতিহ্য, অর্জন ও ভবিষ্যতের প্রত্যয়কে ধারণ করে বর্ণিল ও উৎসবমুখর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ । দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব রকিবুল ইসলাম বকুল, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়েটের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তাঁদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
দিবসটির কর্মসূচি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামের সামনে প্রীতি সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, ভাইস-চ্যান্সেলর, আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত স্টল পরিদর্শন করেন।
এরপর ‘কুয়েটের অর্জন (ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ)’ শীর্ষক উপস্থাপনা করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। উপস্থাপনায় তিনি কুয়েটের দীর্ঘ পথচলার অর্জন, বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের মেধাবী তরুণদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। কুয়েট দক্ষ প্রকৌশলী, গবেষক ও উদ্ভাবক তৈরির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় কুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উচ্চশিক্ষা, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হুইপ জনাব রকিবুল ইসলাম বকুল, এমপি বলেন, কুয়েট খুলনার গর্ব এবং দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় খুলনা অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কুয়েট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। মেধাবী তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কুয়েটের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভাপতির বক্তব্যে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, দীর্ঘ ৫৯ বছরের পথচলায় কুয়েট শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের পর গত ২৩ বছরে কুয়েটের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হয়েছে। তিনি বলেন, “সকল ভেদাভেদ ভুলে কুয়েটকে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” ভাইস-চ্যান্সেলর কুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, অ্যালামনাই ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ‘খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘ফরেন স্টুডেন্ট ডরমিটরী এন্ড ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি অ্যাকোমোডেশন ভবন’ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন ‘রূপসা’-এর শুভ উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি ও বিশেষ অতিথি হুইপ জনাব রকিবুল ইসলাম বকুল, এমপি। নতুন ভবন দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন এবং আবাসন সুবিধা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে বিকেল ৩টায় স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নিচতলায় পোস্টার ও প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন এবং বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবরেটরি উন্মুক্ত রাখা হয়। বিকেল ৪টায় শিক্ষক বনাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও আইডিএম-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী এবং কমিটির সদস্য সচিব ও পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আরিফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট ও দপ্তরের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
