Sunday, March 15, 2026

২ নভেম্বর বিশিষ্ঠ রাজনীতিবিদ সাবেক এমএনএ শামসুর রহমানের ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী

Must read

 

তৃপ্তি রঞ্জন সেন, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : ২ নভেম্বর শনিবার বিশিষ্ঠ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর ও সাবেক পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) আলহাজ্ব শামসুর রহমানের ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ছিলেন। এদিকে মরহুমের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান এবং এতিমখানায় এতিমদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
আলহাজ্ব শামসুর রহমান ১৯১৫ সালে ৫ মে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের মঠবাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মুন্সী কফিলউদ্দিন একজন স্কুল শিক্ষক এবং মাতা মরহুমা শরিফাতুন্নেছা গৃহিণী ছিলেন। শামসুর রহমান ১৯২২ সালে তোকিয়া গোলাবাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, এরপর ১৯২৪ সালে ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী মাধ্যমিক স্কুল, পরে ১৯৩২ সালে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির থেকে বৃত্তি সহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর ১৯৩৫ সালে বাগেরহাট পিসি কলেজ থেকে বৃত্তি সহ প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৩৯ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইসলামি কলেজ থেকে বি.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৩৯ সালে পশ্চিম বাংলার মেদিনীপুর জেলার কৃষ্ণপুর হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪০ সালে রিলিফ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪১ সালে কৃষি বিভাগে চাকরি, ১৯৪৯ সালে সাংবাদিকতা শুরু, ১৯৫০ সালে মুসলিম আর্ট প্রেস প্রতিষ্ঠা, সাপ্তাহিক তহহিদ প্রকাশ, ১৯৫২ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান, ১৯৫৫ সালে খুলনা জেলার আমীরের দায়িত্ব পালন, ১৯৫৮ সালে দৈনিক অবজারভারের খুলনা প্রতিনিধি, এপিপির আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ১৯৫৯ সালে খুলনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের সদস্য এমএনএ নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা বিভাগীয় আমীরের দায়িত্ব পালন, ১৯৭২ সালে গ্রেফতার এবং কারাবরণ, ১৯৭৪ সালে হজ্জ পালন এবং সৌদির বাদশা ফয়সালের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র প্রণযন সাব কমিটির আহবায়ক হন। ১৯৮০ সালে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল। ১৯৮৩ সালে জামায়াতের নায়েবে আমীর এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে দৈনিক সংগ্রাম ও বাংলাদেশ পাবলিকেশনের চেয়ারম্যান, ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় কারাবরণ, ১৯৮৬ সালে দারুল ইসলাম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারম্যান, ১৯৯১ সালে খুলনা ২ আসন থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। আর্ন্তজাতিক সংস্থা মুসলিম এইড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, সিরাতুল হুদা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ১৯৯৫ সালে ওমরাহ পালন, ১৯৯৬ সালে হজ্জ পালন, ১৯৯৭ সালে ওমরাহ পালন করেন। আলহাজ্ব শামসুর রহমান ও বেগম শামসুর রহমানের ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে। তারা সকলেই বিবাহিত এবং ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত। বয়োবৃদ্ধ এ জামায়াত নেতা সারা জীবনব্যাপী দেশের জনগণের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করেছেন। জামায়াতে ইসলামির গুরুত্বপুর্ণ এ রাজনীতিবিদ ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে খুলনার আলতাপোল লেনস্থ নিজ বাসভবনে বাধ্যক্যজনিত কারনে ৯৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এদিকে আলহাজ্ব শামসুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পাইকগাছায় সিরাতুল হুদা এতিমখানায় এতিমদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং এতিম খানায় জুম্মা বাদ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াতে ই্সলামির আমির মাওঃ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ গ্রহন করেন মাওঃ আবুল কাশেম গোলামউল্লাহ, সনাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওঃ শেখ কামাল হোসেন, জেলা নায়েবে আমির মাওঃ গোলাম সরোয়ার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওঃ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article