সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : প্রজন্মের মধ্যে রসায়নবিষয়ক জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির আয়োজনে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড ২০২৭-এর প্রিলিমিনারি রাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ জাতীয় পতাকা, কুয়েটের পতাকা এবং বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অলিম্পিয়াডের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। পরে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অলিম্পিয়াডের শপথবাক্য পাঠ করান। এসময়, অতিথিবৃন্দ প্ল্যাকার্ড সংবলিত বেলুন উড়িয়ে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড ২০২৭-এর প্রিলিমিনারি রাউন্ডের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, “বিজ্ঞানচর্চার সূচনা হয় ‘কী’ এবং ‘কেন’- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে। কোনো বিষয় শুধু মুখস্থ করা নয়, বরং কেন ঘটছে, কীভাবে ঘটছে এবং এর পেছনের কারণ কী-তা জানার আগ্রহই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলে। রসায়ন আমাদের চারপাশের প্রকৃতি, পদার্থ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে শেখায়। তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন করার সাহস, যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং গবেষণার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও গবেষক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং জ্ঞান অর্জন, সত্য অনুসন্ধান এবং মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের প্রয়োগে আগ্রহী হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অলিম্পিয়াডের কনভেনর এবং কুয়েটের সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুয়েটের পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী এবং খুলনার সরকারি এম. এম. সিটি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রফেসর শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ্।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নবিষয়ক আগ্রহ সৃষ্টি, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী শিক্ষার্থী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের অলিম্পিয়াডের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, কুয়েটে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার প্রিলিমিনারি রাউন্ডে খুলনার বিভিন্ন কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির মোট ৪০৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এক ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষায় ৬০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১০ জন করে মোট ২০ জনকে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হবে।
এবারের ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের প্রিলিমিনারি রাউন্ড দেশের ১৫টি আঞ্চলিক পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে অংশগ্রহণকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বাছাই করে সেরা ২০০ জনকে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত করা হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা ৪ জন আন্তর্জাতিক কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আয়োজনে অলিম্পিয়াডের ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিষয়ে নিজেদের জ্ঞান ও মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত হবে।
