সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা যেন বেশি তৎপর হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও তাদের প্রচার প্রচারণা একটুও থেমে নেই। প্রতিদিন কুশল বিনিময়, পথসভা, মতবিনিময়, উঠান বৈঠকের মধ্য দিয়ে সময় কাটছে তাদের।
এবারের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীও বেশি হতে যাচ্ছে। তার মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন ৪/৫জন। সম্ভাব্য এ প্রার্থীরা সকলেই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। মুলতঃ দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তিতে তারা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া ইউনিয়নে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেও চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে। আবার মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বর্তমানে ইউনিয়ন জুড়েই প্রতিদ্বন্দ্বি এসব প্রার্থীদের প্রচার প্রতারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। পাড়া, মহল্লাসহ হাটে, বাজারে ছেয়ে গেছে তাদের প্যানা পোষ্টার। এছাড়াও প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব কর্মী সমার্থক। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে চলেছেন ইউনিয়নের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে।
ইউনিয়নে সরেজমিনে ঘুরে মিলেছে এমন তথ্য। জানা গেছে, উপজেলার এই ইউনিয়নটি হল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি। এখানকার চেয়ারম্যান ছিলেন মরহুম শেখ দিদারুল ইসলাম দিদার। তিনি উপজেলা বিএনপি নেতা ছিলেন। এবারের নির্বাচনেও ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান হতে বিএনপির প্রার্থীরা মরিয়া। এ সারিতে রয়েছেন ইউনিয়নের ৪/৫ জন শীর্ষ নেতা। তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আবুল কাশেম। তিনি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চলমান ইউপি সদস্য। পর পর পাঁচ বারের নির্বাচিত মেম্বার তিনি। ইউনিয়নবাসী তাকে কাশেম মেম্বার বলেই বেশি চেনেন জানেন। রাজনৈতিক দিক দিয়ে তিনি ছাত্রদল থেকে শুরু করে যুবদলে নেতৃত্বেও দিয়েছেন। এবার চেয়ারম্যান পদে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। নিজের প্রার্থীতা নিয়ে তিনি বলেন- আমি ছাত্র জীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ছাত্রদল ও যুবদলের পর বর্তমানে মুল সংগঠন বিএনপির সঙ্গে রয়েছি। যে কারণে দীর্ঘ ১৭টি বছর একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছি। অনেক জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু কখনো বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যায়নি। তাই আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তিতে আমি শতভাগ আশাবাদী। এছাড়াও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল আলমের ভাই শেখ শাহিনুর রহমান শাহীন। ইউনিয়ন জুড়ে তারও রয়েছে অনেক পরিচিতি। সমগ্র ইউনিয়নে এরই মধ্যে ছেয়ে গেছে তার প্যানা পোষ্টারে। বিএনপি নেতা ও প্রায়ত চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল আলম দিদারের ভাই হিসেবেই তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। এবারের নির্বাচনে তিনিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক এফ এম রফিকুল ইসলাম। দলীয় ভাবে তারও অনেক পরিচিতি রয়েছে। বিগত সময়ে তিনিও একাধিক বার জেল খেটেছেন। দলের তৃণমূল থেকে শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত তার চেনা জানা। ফলে দলের মনোনয়ন প্রাপ্তিতে তিনিও আশাবাদী। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তিতে মাঠে আছেন মোঃ হুমায়ুন কবির শেখ। তিনিও জেল খেটেছেন এবং একাধিক বার হামলা মামলাসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তিনিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন ছাত্রদল নেতা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম জোয়াদ্দার। তরুণ প্রজন্ম ও নেতৃত্বের দিক তার নামও শোনা যাচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তিতে তিনিও মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রচারণার মাঠে থাকা প্রত্যেকই এখন তৃণমূল থেকে শুরু দলের হাইকমান্ডে রাখছেন যোগাযোগ । মনোনয়ন প্রাপ্তিতে সকলেই আশাবাদী। এছাড়াও এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আত্মপ্রকাশ করেছেন মোঃ আবুল হোসেন শেখ। তিনি হলেন জামায়াতে ইসলামী খর্ণিয়া ইউনিয়ন শাখার আমীর। দলীয় ভাবে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। নিজের প্রার্থীতা নিয়ে তিনি বলেন- খর্ণিয়া ইউনিয়ন হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোট ব্যাংক। বিগত সংসদ নির্বাচনে আমাদের দলের সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাহেব দড়িপাড়া প্রতীকে বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তিনিই বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোড়ল। তিনি আমেরিকা প্রবাসী। প্রায় ১৭ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তার প্রার্থীতা নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক সাড়া পড়েছে। ইউনিয়ন ব্যাপী তার অনেক চেনা-জানা। আহত, নিহত সব বাড়িতেই হাজির হচ্ছেন তিনি। দান অনুদানও করছেন। নিজের প্রার্থীতা নিয়ে তিনি বলেন-দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকলেও আমার মুল লক্ষ্য হলো মানুষের সেবা করা। দলমত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে মিশে থাকতে চাই। আমার প্রধান লক্ষ্য হবে এলাকার উন্নয়ন মূলক কাজ করা। তবে ভালো কাজ করতে গেলে অনেক বদনাম ও হিংসা বিদ্ধেষের মুখে পড়তে হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমাকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্রের জাল বুনা হচ্ছে। বদনামও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন ভয়ভীতিতে আমি দুর্বল নই। আমার বিশ্বাস, খর্ণিয়া ইউনিয়ন বাসী আমার পক্ষে আছেন এবং আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিজয় আমার সুনিশ্চিত।
