সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়ায় বহুল আলোচিত সেই হাসেম আলী কাঁচামাল ও আনোয়ারা মৎস্য আড়তসহ আশপাশের ৬.১৯ হেক্টর জায়গা পানি বাংলাদেশ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পরে সেখানে সিমানা পিলার ও লোহারনেট দিয়ে দেওয়া হয়েছে শক্ত আকারে ঘেরাবেড়া।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের থানা মোড়ের আগেই ছিল হাসেম আলী কাঁচামাল ও আনোয়ারা মৎস্য আড়ৎ। যার পরিচালনায় ছিলেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু। প্রায় ২০ বছর ধরেই এখানে হয়ে আসছিলো মাছ ও কৃষি ফসল কেনাবেচা। এরই মধ্যে ওই আড়তের ভিতরে ৩.১৯ হেক্টর জায়গা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি করে এবং আড়ত দুটো উচ্ছেদের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। যা নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করে। এক পর্যায়ে চলতি বছরের জানুয়ারি ও এপ্রিল মাসে অতিরিক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট ও বিপুল পুলিশের সহায়তায় বুলড্রোজার দিয়ে আড়তের স্থাপনাসমূহ ভেঙ্গে উচ্ছেদ করে দেয়। সর্বশেষ আজ ০২ জুলাই ২০২২ রোজ শনিবারে ওই জায়গা জুড়ে সিমানা পিলার ও মজবুত লোহার নেট দিয়ে ঘেরাবেড়ার মাধ্যমে একেবারেই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মু. হাসনাতুজ্জামান বলেন- সরকারের প্রায় ৩,শ কোটি টাকা মূল্যের ৬.১৯ হেক্টর সম্পত্তি দখলমুক্ত করা হল। তবে এই জায়গা অবমুক্ত করতে প্রায় ২বছর ধরে আমাদের প্রচেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকারও হতে হয়েছে। সর্বশেষ আমরা শক্ত লোহার ঘেরাবেড়ার মাধ্যমে পুরোটা এরিয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছি।
এ বিষয়ে আড়তের পরিচালক ও ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু বলেন- আড়তের জায়গা উচ্ছেদের নামে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমার প্রতি প্রতিহিংসা করে এমন কঠিন অবিচার করা হল। কিন্তু এর জন্য শুধু আমার একার ক্ষতি হয়নি। ক্ষতি হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষের, যারা এখানে কুলির কাজ করতো। ক্ষতি হয়েছে কৃষক-মাছ চাষীদের। তিনি আরও বলেন- এই আড়তে প্রায় এক হাজার লোকের নিরাপদ রুটিরুজি ছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে তাদের মুখের আহার কেড়ে নেয়া হল। আরও বলেন- এই ডুমুরিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক জমি আছে, যেখানে দখল করে বাড়ি করা হয়েছে, ব্যবসা করা হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সে দিকে নজর দিচ্ছে না। কিন্তু সেখানে হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা ছিল সেখানে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হল।
