Wednesday, May 20, 2026

দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন

Must read

 

ইয়াছিন আলী, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার কুলিয়াস্থ নিজস্ব অফিস প্রাঙ্গনে আজ ২০ মে ২০২৬ রোজ বুধবার সকাল ১১টার সময় অনুষ্ঠিত উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন দেবহাটা উপজেলার ১নং কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে, প্রয়াত দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন দৃঢ়তার অনুপ্রেরনায় ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা বুকে ধারন করে বিএনপির পতাকাতলে আবদ্ধ থেকে রাজনীতি করে আসছেন। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই দলের কর্মী ও সাধারন মানুষের কল্যানে কাজ করেন সেটা ইউনিয়নবাসী অবগত। গত কয়েকদিন পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা প্রচারনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের অপপ্রচার চালাচ্ছে সেটা শুধু তার নিজের নই বরং দলের ভাবমূর্তিও দারুনভাবে নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রকৃত ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, কুলিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ওরফে বাঙালের ছেলে আব্দুল্লাহ মিলনের কাছে তিনি ৩০ হাজার টাকা পান। গত কয়েক মাস আগে মিলন ব্যবসায়িক প্রয়োজনের কথা বলে তার নিকট থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ধার হিসেবে নেই। কিন্তু অনেকদিন হয়ে গেলেও সে টাকা না দেয়ার কারনে তার কাছে অনেকবার টাকা ফেরত চাইলে সে আজ দেবে, কাল দেবে বলে এভাবে প্রতারনা করতে থাকে। তিনি বিষয়টি দলীয় নেতাকর্মীদের অবহিত করলেও আব্দুল্লাহ মিলন টাকা ফেরত দেইনি। বরং টাকা না দেয়ার ওছিলাই মিলন হামিদুল হক শামীমের প্রতিপক্ষদের সাথে হাত মিলিয়ে তার নামে নানারকম কুৎসা রটাতে থাকে। যার কারনে গত ইং ১৬/০৫/২৬ তারিখ রাত ৮টার দিকে তিনি তার দলের ৪নং ওয়ার্ডের সভাপতি পলাশ আহম্মেদ ও ৫নং ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীনকে সাথে নিয়ে কুলিয়া বাজারের মধ্যে তার কাছে এবিষয়ে জানতে চান এবং তার টাকা ফেরত দিতে বলেন। সে তখন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে মারতে আসে এবং একপর্যায়ে তার সাথে থাকা দলীয় নেতা জয়নাল আবেদীনকে রড দ্বারা মারপিট করে। এতে জয়নাল আবেদীনের মাথা ফেটে যায়। তখন স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে মিলন তাদেরকে বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আহত জয়নাল আবেদীনকে আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দেবহাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। জয়নাল আবেদিনের মাথায় সেলাই দেয়া লেগেছে বলে হামিদুল হক শামীম বলেন। তিনি বলেন, প্রকৃত এই ঘটনাটি আড়াল করতে ও এবিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিতে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সাথে আতাত করে মিলন তার ও তার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানারকম মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অবাস্তব কাহিনি সৃষ্টি করে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।
হামিদুল হক শামীম আরো বলেন, আব্দুল্লাহ মিলন ও তার ভাই আবু সিদ্দিক নেশাখোর, কিশোর গ্যাং পরিচালনাকারী ও ভুয়া ফেসবুক আইডি পরিচালনাকারী। তারা ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন সম্মানী মানুষদের অসম্মানিত করা এমনকি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্পর্কেও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে যার প্রমান আছে বলে শামীম দাবি করেন।তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাননা।
শামীম বলেন, তিনি একজন কর্মীবান্ধব ও ব্যবসায়ী মানুষ। তিনি এই অপপ্রচারকারী, সন্ত্রাসী, এলাকার কিশোর গ্যাং পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার ও দেবহাটা থানার পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম মনি, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হোসেন আলী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুর রহিম, কুলিয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদের মধ্যে আফ্রিদি, আবু সাঈদ, আসাদুল ইসলাম আসাদ, আমজাদ হোসেন, গোলাম মোস্তফা, আল আমিন হোসেন, জাকির হোসেন, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article