আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে থানা পুলিশ। নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে নেওয়া হয়েছে কার্যকর উদ্যোগ। রাতের পুলিশি টহল জোরদার, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং অপরাধ দমনে ধারাবাহিক তৎপরতায় জনমনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রায় তিন লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ওসি শাহিদুর রহমান পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), থানার সব উপপরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।
এরই অংশ হিসেবে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় রাতের পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও চেকপোস্ট পরিচালনা, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন ওসি শাহিদুর রহমান। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মতবিনিময় সভা, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং মসজিদ-মন্দিরে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকেও হাটবাজার, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মতবিনিময়ে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরেও ওসি শাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে নেওয়া হয়েছিল বহুমুখী নিরাপত্তাব্যবস্থা। উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতাদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়।
এমনকি বিজয়া দশমীর দিনে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে। অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দীন, পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার প্রণব কুমার, জাতীয় ক্রিকেটার সৌম্য সরকারের বাবা ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কিশোরী মোহন সরকার এবং ওসি শাহিদুর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হওয়াকে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থার ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সময়ের দুর্গোৎসবগুলোর মধ্যে এবারের আয়োজন ছিল অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতা এবং জনসম্পৃক্ততামূলক উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ওসি শাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকলে আশাশুনিতে অপরাধ প্রবণতা আরও কমবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।
