Saturday, October 31, 2026

জলবায়ু সংকটের দায় ও অধিকার আদায়ে বিশ্ব দরবারে তরুণদের কণ্ঠ পৌঁছানোর আহবান

Must read

 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে বিশ্ব দরবারে তরুণদের কণ্ঠ সোচ্চার করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, উন্নত বিশ্বের ভোগবাদী জীবনযাপন ও প্রকৃতিবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ডের কারণে জলবায়ু সংকট তৈরি হলেও এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও প্রান্তিক দেশগুলো। এই সংকট মোকাবেলায় তরুণ ও যুবসমাজকে সংগঠিত হয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
আজ ৩১ অক্টোবর ২০২৬ রোজ শনিবার রাজধানীর লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ক্লাইমেট কোয়েশ্চেন কনফারেন্স-২০২৬’-এ এসব কথা বলেন তারা। পরিবেশ বার্তা আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ আকমল হোসেন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন নারী নেত্রী ও লেখক কাজী সুফিয়া আখতার। তিনি বলেন, বিশ্ব দরবারে প্রশ্ন উত্থাপন ও দাবি আদায়ের জন্য তরুণদের এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। পৃথিবীকে জলবায়ু সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে উন্নত বিশ্ব। অথচ বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলো এর ভুক্তভোগী হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সব জায়গায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে কৃষি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রেজাউল করিম সিদ্দিক বলেন, তরুণদের আরো বেশি প্রশ্ন করতে শিখতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় দেশব্যাপী তরুণদের আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ইউনেস্কো চেয়ার ও সেন্টার ফর সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ক্লাইমেটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। সম্মেলনের ধারাবাহিক সফলতা কামনা করেন তিনি।
পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারেক চৌধুরী সোহেল, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী, স্কাইল্যান্ড রিক্রুটমেন্ট সলিউশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ব্রাত্য আমীন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানইয়া নাহার, আইটি বিশেষজ্ঞ তানজিল আবেদিন, উন্নয়নকর্মী মো. জাহাঙ্গীর আলম, নিকিতা নন্দিনী প্রমূখ।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং দেশি জাতের বীজ বিতরণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয়। পরে আদিবাসী ও বাঙালি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন তানজির রহমান ভূঁইয়া। সম্মেলনের পরবর্তী পর্বে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক দুটি ধারণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা হয়। পরে মানিকগঞ্জ থেকে আসা বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় বাউলগান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলবায়ু সংকটের জন্য প্রকৃত অর্থে কারা দায়ী এবং সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের তরুণ ও যুবসমাজ কী ভূমিকা রাখতে পারে, সে প্রশ্ন সামনে রেখেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর পরিসরে ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ ক্লাইমেট কোয়েশ্চেন কনফারেন্স-২০২৭’ আয়োজন করা হবে।

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article