সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : আসন্ন শারদীয়া দুর্গোৎসবকে ঘিরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খরশঙ্গ কালার বটতলা পূজা মন্দিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মুল প্রতিমা দেবী দূর্গাসহ নির্মিত হচ্ছে দু’শ একটি মুর্তি।
জানা গেছে, উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের খরশঙ্গ কালার বটতলা মন্দিরে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে উদযাপিত হবে আসন্ন দুর্গাপূজা। দু’মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিমা নির্মাণ কাজ। এবারের পূজায় দেবী দূর্গাসহ নির্মাণ করা হচ্ছে দুই’শ একটি মুর্তি। মুর্তিতে তুলে ধরা হচ্ছে হিন্দু ধর্মীয় ও পৌরানিক কল্প-কাহিনী। সনাতনী চার যুগ তথা সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলির ঘটনা নিয়ে গড়া হচ্ছে এ সব মুর্তি। যা মধ্যে রয়েছে সত্যযুগে যমরাজের বিচার সভা, ত্রেতা যুগে রাম-সীতার বনবাস, দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অর্ভিভাব এবং কলি যুগে শ্রী গৌরঙ্গ মহাপ্রভু ও হরিচাঁদ ঠাকুরের ইতিকথা। সম্পূর্ণ খড় মাটিতে নির্মাণ হচ্ছে মুর্তিগুলো। এরই মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে মাটির কাজ। রং তুিলর কাজ শুরু হবে এই সপ্তাহে।
এ বিষয়ে প্রতিমা নির্মাণে প্রধান ভাস্কর অভিলাশ মন্ডলের সঙ্গে আলাপ কালে তিনি জানান, গত বছরে এই মন্দিরে আমরা ১’শ ৪৭টি মুর্তি গড়েছিলাম। এবার তা বাড়িয়ে ২’শ ১টি তৈরী করা হচ্ছে। দু’মাস ধরে আমিসহ আরও ৩ সহযোগী মিলে কাজ করছি। এরই মধ্যে দো-মাটির কাজ শেষের পথে। ৫/৬ দিনের মধ্যে রং তুলির কাজ শুরু হবে।
পূজা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ সুব্রত সরকার জানান, বিগত বছর থেকে এখানে এই মহা উৎসব শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে আছি আমরা ক’জন ব্যবসায়ী। দূর্গাপূজা ও সনাতন ধর্মের কল্প- কাহিনীসহ পৌরানিক ঘটনাবলি তুলে ধরাই আমাদের মুল লক্ষ্য। আমাদের ভাস্কররা সেই আঙ্গিকে মুর্তি তৈরী করছে। তবে এবার ব্যয়ের পরিমাণটা অনেক বেশি। শুধু প্রতিমা নির্মাণে দিতে হচ্ছে চার লক্ষ টাকা। এছাড়াও সাজ-সর্জ্জা, লাইটিং তাতেও বড় খরচ হবে। সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। প্রত্যাশা রাখছি খুব সুন্দর ও সুষ্ঠ ভাবে পূজা সম্পন্ন করতে পারবো। এছাড়া এলাকায় রয়েছে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অটুট বন্ধন ও সুসম্পর্ক। বৃহৎ এই উৎসবকে ঘিরে মুসলিম ভাইয়েরা সব সময় পাশে থেকে নিচ্ছেন খোঁজ খবর। পূজা পরিচালনায় গঠন করা হয়েছে উদযাপন কমিটি, যার সভাপতি গৌতম সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সরকার।
