মিহির রঞ্জন বিশ্বাস, (খুলনা) : আমাদের ঋতুচক্রে বৈশাখ মাস এলেই শুরু হওয়া গরম যা আষাড় শ্রাবণে কিছুটা কমে আসে, কিন্তু এবারের বিরুপ আবহাওয়ার জন্য বৃষ্টিপাত কম হওয়ায়েএখনও সারা বিশ্বব্যপী চলছে প্রচণ্ড দাবদাহ। এর সাথে রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধর কারনে সারা বিশ্বাব্যপী তেল সংকটের প্রভাবে আমাদের দেশেও সরকারি ভাবে দিনে এক ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টা করে লোড শেডিং ঘোণনা হয়।
এই লোড শেডিং ঘোষনার সাথে সাথে বাজারে চার্জার লাইট ও চার্জার ফ্যানের টাহিদা বেড়েছে। তেমনি মধ্যবিত্ত ও নিন্ম বিত্তেরদের এই ভ্যপষা গরমে বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ে তালপাখাই একমাত্র ভরসা। তাই গ্রামে গঞ্জের হাট বাজারে বেড়েছে তাল পাখার চাহিদা।
লোড শেডিংয়ের কারনে এই গরমে প্রাণ জুড়ানো শিতল বাতাস পেতে বাংলার গ্রামে গঞ্জে পরিবেশ বান্ধব তালপাখার কোন জুড়ি নেই। গ্রামীণ জীবনে গরমকালে এখনো তালের পাখা ভুমিকা অপরিহরিসীম। আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রপতির যুগে পাখার বিকল্প অনেক যন্ত্রের আবিষ্কার হলেও শিতল বাতাশের জন্য তাল পাখার জুড়ি নেই। তাইতো প্রবাদ আছে “আমার নাম তালের পাখা শীতকালে ভাই দেইনা দেখা, গ্রীষ্মকালে প্রাণের সখা। আবার এ নিয়ে গান ও রচিত হয়েছে তোমার হাত পাখার বাতাশে আমার প্রণ জুড়িয়ে আসে।
গরম আসলেই গ্রামে গঞ্জে হাটে বাজারে দোকান পাটে বৈশাখী মেলা সহ বিভিন্ন মেলায় এই তাল পাখা বিক্রয় করতে দেখা যায়। এছাড়া কাধেঁ করে ফেরি করে ও তাল পাখা বিক্রয় করতে দেখা যায়।
শিরোমনি বাজারে তেমনি এক জন তাল পাখা বক্রেতা যশোর অভয়নগর শিদ্দিপাশার গ্রামের ঈমান আলী। সারা বছর কাঁচা মাল বেচাকেনার কাজ করলেও গরমের সময় আসলেই বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে তালে পাখা বিক্রয় করে। পাখা বিক্রেতা ঈমান আলী বলেন এই গরমে ও লোড শেডিং বেড়ে যাওয়ায় তাল পাখার চাহিদা বেড়েছে। চাহিদার সাখে সাথে দাম ও বেড়েছে। আগে যে পাখা পবিক্রয় হতো ২৫ টাক তা এখন ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের মাহাজনরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্কুল শিক্ষিকা তহমিনা বলেন প্রতিদিন ৪-৫ বারও লোড সেডিং হচ্ছে এই গরমে যে হারে লোড সেডিং হচ্ছে তাতে বাসার জন্য ৪ টি তাল পাখা কিনেছি রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাল পাখা এক মাত্র ভরসা। পাখা বিক্রেতা নাইম বলেন আধুনিক ইলেকট্রনিক্স পাশা পাশি দেশিও হস্ত শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে সরকারের পৃষ্ট পোষকতা প্রয়োজন।
