বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগরী সভাপতি মু. আজিজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া দুঃখী অনাহারি মানুষের ভাগ্যের বদল হবে না। তাই ইসলামী শ্রমনীতি কায়েম করতে হবে। এই নীতিতে শ্রমিক মালিক দ্বন্দ্ব নয়, শক্রতা নয়। আমাদের দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর কাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আদর্শিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন শক্তিশালী করতে হলে নেতৃবৃন্দকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী হলে জাতীয় সংগঠন মজবুত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে যাবে। শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা এবং মালিকের প্রাপ্য সেবার ভারসাম্য ইসলামে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তাদের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দিতে হবে। আমরা যে খাবার খাব শ্রমিকদেরও সেই খাবার খেতে দিব, একমাত্র ইসলামই পারে এদেশের ন্যায় বিচার ও ন্যায্য অধিকারে রাষ্ট্র কায়েম করতে। খুলনা সদর থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কদমতলা রেলওয়ে কার্যালরে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
থানা সভাপতি মু. আসিফ ইকবাল মাসুম এর সভাপতিত্বে ও থানা সাধারণ সম্পাদক মুরাদ সোহাগ এর পরিচালনায় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সহ-সভাপতি এস.এম মাহফুজুর রহমান, কাজী মাহফুজুর রহমান। এতে শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলাম, কাওছার আলী, মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, আবুল কাশেম, মেহদী হাসান কাওছারী, সাদ্দাম হোসেন, আব্দুর রশিদ, মতিয়ার রহমান, কামরুল ইসলাম, বুলবুল, মু. মাসুম, হায়দার আলী, নেসার আলী, তোফিজুল ইসলাম, আব্দুস সুবহান, সাইফুল ইসলাম, আল আমীন, আনিসুর রহমান, মু. জাহাঙ্গীর, আবু সাঈদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য কাজী মাহফুজুর রহমানকে সভাপতি এবং মুরাদ সোহাগকে সাধারণ সম্পাদক করে খুলনা সদর থানার ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, আমাদের দেশের শ্রমিকরা হাড় ভাঙা পরিশ্রম করা সত্ত্বেও তাদের সাথে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মতো আচরণ করা হয়। অথচ তাদের রক্ত, ঘামের ফসলে দেশ ও অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। ইসলাম সকল শ্রেণির সকল পেশার মানুষের সমান অধিকার সম্মান নিশ্চিত করেছে। ইসলাম বলে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। মানুষের কর্মের দিকে তাকিয়ে নয় বরং তার কাজের প্রতি সম্মান রেখে তার মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। আমাদের শ্রমিকরা বছরের পর বছর কষ্ট পরিশ্রম করা সত্ত্বেও তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয় না।
তিনি আরো বলেন, সারা বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থ ও খাবার কষ্টে অতিবাহিত করছে আমাদের দেশের শ্রমিকরা। ইসলাম শ্রমনীতি প্রচলিত ধারার শ্রমনীতি সমর্থন করে না। বরং ইসলাম একজন প্রমিকের পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলার মতো পারিশ্রমিক দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এ সময় তিনি শ্রমিকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। তার দেখানো পথে নিজেদের জীবন পরিচালিত করুন। শ্রমিক ও মালিকরা যদি রাসূল (সা.) এর দেখানো পথ অনুসরণ করে তাহলে এই অঙ্গনে কোনো ধরনের অসন্তোষ-ক্ষোভ থাকবে না।
