আশাশুনি (সাতক্ষীরা) ব্যুরো : আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের তিতুখালী জনমহলের ইজারা বাতিলের অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলমহল ইজারা গ্রহিতাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও জাল জালিয়াতিতে ভরা বলে ইজারা গ্রহিতা সমিতির সদস্যরা দাবী করেছেন। আজ ১৭ এপ্রিল ২০২৪ রোজ বুধবার দুপুরে তদন্ত কমিটি সিনিঃ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার, সহকারি সমবায় কর্মকর্তা সন্ন্যাসী মন্ডল ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবু বক্কার সিদ্দিক সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
জানাগেছে, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে বড়দল উত্তরপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা দেওয়া বুড়িয়া মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত তিতুখালী ১১২, ২৭০, ১৭৫ দাগের ২৫ একর ৫০ শতক জমি জল মহলের ইজারা বাতিলের জন্য একই গ্রামে মৃত্যু কোমর উদ্দিন সানার ছেলে জহুরুল হক সানা (জলম) বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারি কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তিন সদস্যের উক্ত তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। গঠিত তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জবানবন্ধি গ্রহন ও লিখিত বক্তব্য নেন। তদন্ত কালে সমিতির সভাপতি বড়দল গ্রামের মৃত হোসেন মালির ছেলে ইউসুফ আলী মালী সহ সদস্যবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, বড়দল উত্তর পাড়া সমবায় সমিতির নামে বাংলা ১৪২৯ সাল থেকে ১৪৩১ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদী (রাজস্ব পরিশোধ করে) ইজারা গ্রহণ করি। কিন্তু ফসল ঘরে তুলতে পারি না। প্রতিপক্ষ একটি সাবলিজের জাল জালিয়াতি পূর্ণ কাগজপত্র তৈরি করে দুইবছর ধরে খালটি জবর দখলের ষড়যন্ত্র ও হয়রানী করে আসছে। আমরা তাদেরকে সাবলীজ দেয়নি। আবার ২০২২ সালে সমিতির জন্ম হলেও তারা ২০২১ সালের জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে অভিযোগ দায়ের করেছে। সমিতি জলমহলটির কোন সাবলিজ দেয়নি তাদের।তারা সাবলীজের যে কাগজ দেখাচ্ছে তাতে সদস্যদের টিপ সহি করানো অথচ সকল সদস্য স্বাক্ষর করতে পারেন। যা তদন্তকালে প্রমানিত হয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে জল মহলটি আমাদের (সমিতির) অনুকূলে রয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এ বছর মৎস্য চাষ করব। কিন্তু প্রতিপক্ষ জহুরুল হক সহ তার লোকজন আমাদেরকে ওই খাল থেকে বেদখল করার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে সমিতির সদস্যরা জানান।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি জানান, সরেজমিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযোগটির তদন্ত করেছি। কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
