আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার সকল হাটবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের উর্ধ্বমুখীতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলার মানুষের মধ্যে বৃহৎ অংশ কৃষক, শ্রমজীবি, মৎস্যজীবি দীন মজুর শ্রেণির। চলতি মৌসুমে এদের বেশীর ভাগ কর্মহীন হয়ে পড়েন। ফলে মধ্যবিত্ত, নিম্ন ও স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে থাকে। সেই মুহুর্তে হু হু করে বেড়ে চলে ভোগ্য পণ্যসহ বিভিন্ন জিনিসিপত্রের দাম। দামের উর্ধগতির কারণে একেবারেই বেসামাল হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তাদের ব্যয় বাড়লেও, বাড়েনি আয়। বরং আয় কমেছে। ফলে সংসার চলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
প্রাক্তন হেডমাস্টার আব্দুল খালেক বলেন, পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বেশিরভাগ সময় সিন্ডিকেটের দিকে আঙুল তোলা হলেও এর পেছনে আরো বেশ কিছু কারণ রয়েছে। অনেক সময় উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে ঠিকমতো সরবরাহ হয় না। আবার উৎপাদন ও আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাবও পড়েছে অনেক পণ্যের মূল্যে। চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ প্রায় প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। সাধ্যের বাইরে মাংসের দাম। বয়লার ১৫০টাকা, গরুর গোসত ৮০০ টাকা ও খাসির গোশত ১১০০ টাকা কেজি। পেঁয়াজ ১২০, আলু ৬০, বেগুন ১০০টাকা, ডিম ২৫, কাঁচা মরিচ-৩০০, ওল ১০০ টাকা, কচুরমুখি ৮০, পটল ৫০ টাকা, কাচকলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রী হচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের অনেকে বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে শুধু সিন্ডিকেটকে দায়ী করতে চান না, তবে এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে বিভিন্ন সময় দায়ী করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার ও সরকারের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা। কয়েক মাস ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে। শত চেষ্টা করেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কিন্তু কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের কাছে নিয়মিত ঘুরপাক খাচ্ছে।
যদুয়ারডাঙ্গা গ্রামের সমাজ সেবক অমৃত সানা বলেন, সোজা কথায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এখন একটি আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা শুনলেও মানুষ ততটা ভয় পায়না, যতটা এখন দ্রব্যমূল্য নিয়ে পাচ্ছে। কয়েক মাস ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। শ্রমজীবীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ প্রায় প্রত্যেক ভোগ্যপণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। সাধ্যের বাইরে মুরগি, গরু ও খাসির গোশত। পেঁয়াজ, আলু, ডিম, কাঁচা মরিচ-সবকিছুর দামই উর্ধ্বমুখী।
বাজারের অস্থিরতা দূর করতে হলে অবশ্যই অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট দমন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিত্যপণ্যের বাজারে কেউ যেন কারসাজি না করে, সেদিকে নজর দিতে হবে। ভোক্তা অধিকার ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। যারা অনিয়ম করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে তারা মনে করেন।
